জানালা দরজা

By | June 14, 2020
জানালা দরজা

জানালা দরজা

একটি অন্যতম সৌন্দর্য আছে এর জানালা দরজার মাঝে। ঘরে ঢুকতেই প্রথম যে জিনিসটি চোখে পড়ে তা হলো ঘরের দরজা। আর জানালা ঘরের সাথে মানানসই হলে তা বাসায় বসবাসকারী লোকজনের মনটাই ভালো করে দেয়। তাই আজকে আমরা আলাপ করবো বাসার এই গুরুত্বপূর্ণ দুই অংশ নিয়ে।

জানালা

ঘরের আকার বুঝে জানালা নির্বাচন খুব জরুরী। ছোট ঘরে বড় জানালা আবার বড় ঘরে ছোট জানালা বেমানান হয়ে যায়। ছোট জানালা দিয়ে পর্যাপ্ত আলো বাতাস আসে না। আবার বেশি বড় জানালা হলে ঘর বেশি উন্মুক্ত দেখা যায়। কেউ কেউ জানালায় গ্রিল রাখেন না। এ ধরণের উন্মুক্ত জানালা দেখতে ভালো লাগলেও নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা থেকে যায়। আমাদের দেশে বেশিরভাগ বাসায় জানালায় গ্রিল থাকে। এই গ্রিলেরও থাকে নানা নকশা। তবে সিম্পল হরাইজনটাল গ্রিল থাকলে তা পরিষ্কার করা সুবিধা।

জানালা দরজা

জানালায় কপাট ব্যবহারের চলন প্রায় উঠেই যাচ্ছে। এতে খরচ কিছুটা বেশি আর কপাট খুলতে বাইরে যে পরিমাণ জায়গা দরকার, সেটাও অনেক ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না। তবে কপাটের জানালার নিজস্ব আবেদন আছে এখনও। থাই গ্লাস ব্যবহারে খরচ কম তবে ঝক্কিও রয়েছে কিছু। যেমনঃ থাই গ্লাস পুরোটা খোলে না, অর্ধেক খোলে। ফলে আলো বাতাস সবই অর্ধেক আসে। ঘরও গরম হয়ে যায় কাঁচের কারণে।

জানালা দরজা

জানালায় পর্দার ব্যবহার এর সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। বিভিন্ন ফেব্রিকের পর্দা পাওয়া যায় মার্কেটে। কেউ হালকা ফেব্রিক পছন্দ করেন তো কেউ ভারি। আগে দু’টো পর্দায় পুরো জানালা ঘিরে দেওয়া হতো। এখন চারটি ব্যবহার করা হয়। প্রিন্ট, চেক এমনকি হাতে কাজ করা পর্দাও পাওয়া যায়। উজ্জ্বল রঙের পর্দায় ঘরে আলো আসে ভালো। দেয়ালের রঙের সাথে কনট্রাস্ট করে পর্দার রঙ নির্বাচন করা উচিৎ। সাধারণত যেকোন ঘরে অন্তত দু’টি জানালা থাকে। খুব ভালো হয় যদি দক্ষিণ আর পূর্ব দিকে জানালা থাকে। তবে সে ব্যবস্থা না থাকলেও ঘরে অন্তত দু’টি জানালা থাকা দরকার।

দরজা

ঘরের মাপ জেনে দরজা নির্বাচন জরুরী। প্রথমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ডাবল দরজা নাকি সিঙ্গেল দরজা নিবেন। কাঠ, ফাইবার, পারটেক্স এমনকি কাঁচের দরজাও ব্যবহৃত হয়। কাঁচের দরজা কিছুটা দামী হলেও মজবুত হয়। সব ধরণের দরজাতেই নকশা করা এবং নকশা ছাড়া পাওয়া যায়। কোনটাই লক থাকে, কোনটায় হুড়কো। তবে ছিটকিনি আলাদা করে লাগিয়ে নেওয়া ভালো। বাথরুমের জন্য সাধারণত পার্টেক্স বোর্ডের দরজা ব্যবহৃত হয়। এটি ব্যবহার সহজ, টেকসই এবং কম খরচে পাওয়া যায়।

জানালা দরজা

ঘরের তুলনায় দরজার আকার বড় হয়ে গেলে বেমানান হয়ে যায়। আবার ছোট দরজা দিয়ে আসবাব ঢোকানো কঠিন। স্থপতিরা সাধারণত জোড় সংখ্যক দরজা রাখার পরামর্শ দেন। আবার সদর দরজার সামনে সিঁড়িও জোড় সংখ্যক হওয়া উচিত। তাদের মতে, দরজা সব সময় উত্তর বা পূর্ব অথবা উত্তর-পূর্ব দিকে হওয়া ভালো। তবে ঢাকা শহরের মতো স্বল্প স্থান সম্পন্ন এলাকায় অনেক ক্ষেত্রেই এটা সম্ভব হয় না। এবং বাড়ির প্রধান দরজার সংখ্যা সর্বোচ্চ দুটি হওয়া উচিত। এর বেশি কখনই নয়। এবং বাড়ির মুখ যেদিকে, সদর দরজাও সেদিকে হওয়া উচিত।

জানালা দরজা

বাড়ির দরজা সব সময় ভেতর দিকে খোলা উচিত। যদি এক পাল্লার দরজা হয়, তাহলে সেটি বাঁ দিকে হওয়া উচিত। অর্থাৎ যিনি দরজা খুলবেন, তার বাঁদিকে যেন হয় দরজা খোলার ব্যবস্থা। দরজা ও জানালার মোট সংখ্যা পৃথকভাবে জোড় হওয়া উচিত।

জেনে রাখা জরুরী যে, দরজার ম্যাটেরিয়াল যাই হোক না কেন, তা যেন মজবুত হয়। তা নাহলে বাসার সবার নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে যায়। আমাদের সবার গৃহ হোক নিরাপদ ও আরামদায়ক।

 

Also Read:

Like Us On FaceBook

 

Leave a Reply